Categories
কবিতা

বরিশাল

ঘাসের দায়িত্ব আছে
সবুজ বিহনে
কেবা ঘাস
কারা তাকায় জানলাপথে ভক্তিভরে
তাই মাঠে জন্ম লয় ঘাস
প্রথমে হলুদ নাকি, সবুজও তো
মারা গেল খয়েরি শালিখ
তার অক্টোবর দুই-এ, সাল দু হাজার দুই শ সাতাশ
যেন মৃত্যু পদত্যাগ
ঘাসের সবুজে
শালিখের শুয়ে থাকা
নতুন আরম্ভ
কোনো বাংলা কবিতার
তাই ভাববে বলে ভাব করে
কবিতা লেখার খাতা হাতে নিল নবীন যুবতী
নাম নিল জীবনানন্দের
যাবে বরিশালে
বরিশাল, তুমি তো অনেক নাম
যারা যায়
কবির ব্যর্থতাসহ
লঞ্চে যেতে হয়
সঙ্গে বিষণ্নতা
নিজের শরীর
অথবা সবুজ বুঝি ঘাসের মতই
কোনো সদ্য বরিশাল
দেখা দিল কলকাতায়
অশেষ মুগ্ধতাসহ
এই তো কবিতা
যারে না পায় সঠিক লাগে, সৎ বর্ণনায়
ততদিন
পাখির মতই দিন
যেন সকল একাকী পাখি
একা ওড়ে
ওড়াই কবিতা
সঙ্গে আরো কত একা পাখি
একা থাকে, একা মানে পাখি
মানে, পাখিই কবিতা
হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়, উড়ে যায়
দাঁড়ে বসে, কার্নিশ বা ছাদে
ঝুপ করে এক খণ্ড বিষণ্নতা
নেমে আসে
লঞ্চে, কোনো বরিশালে, কলকাতার
সদর রাস্তায়
নামে তাই পাখিই কবিতা
যেন বিষণ্নতা
যেন কবি অবতীর্ণ
পাখি নামে
বিষণ্নতা নামে
তাই পত্র মানে পাখা মানে
পাখি মানে ওড়া তাই
যে ওড়ে সে কবি
তাই সকল মানুষ
চিরদিন কবি হতে চায়
তাই একটি নবীন নারী
একটি পানির উর্ধ্বে ধাবমান
জলযানে
রেলিংয়ের একলা পার্শ্বে
সবুজ ঘাসের মত গ্রাম দেখে
দূরে দেখে
দূরে তাই ভাবছে কবিতা
মানে ভাবছে কবিতা মানে
বরিশাল, শালিখতা, বিষণ্নতা,
নির্জনতা, টির্জনতা,
ক্ষুধাই কবিতা
কোনো মলিন গলিতে
রেস্টুরেন্টে মলিন খাবার আর ম্লান মানুষের
তালিকা সমৃদ্ধ খাতা
বর্ণনাও আছে
বর্ণনার সক্ষমতা কবিতা আকারে
দেখা দেয়
সূর্যের নিচেই হাঁটে পৃথিবীর সম্ভাব্য কবিরা
যেন ভাষ্য আছে, ভাষা নাই
ভাষা আসবে দূর থেকে
নারীর জানলা থেকে
সন্তানবিহীন কোনো ঘাসের গর্ভ থেকে
দাঁড়ি, কমা, ভবিষ্যৎসহ
তাই অসংখ্য গ্যাজেট আর ব্যাকপ্যাক
পানিতে ফেলবে বলে
যেন এক কবির অধ্যাত্মবাদ
সরলতা নাম নিয়ে
দেখা দিল নির্দয় কেবিনে
হায়, কারো দেখা পায় না কবিরা
কোনো বর্ণনাই
সে বর্ণনা নয়
যেন ভোর ভোর নয়
তবু পরস্ত্রী ঢোকার মত
দরজা দিয়ে ভোর দেখা গেল
নগ্ন ও হলুদ কোমল কোনো ঘাস
যেন কোনো বিশাল গোপন
টেবিলের অন্য প্রান্তে বসে আছে
প্রেম নেই, অশেষ জিজ্ঞাসা আছে
তরুণী কবির—

৬/৬/২০১৭

Categories
কবিতা

জলে মৃত্যু – ২

(সিদ্ধার্থ হককে)

ঠাণ্ডা ও স্থির শীতকালীন পুকুরের অল্প গভীরে আমি শুয়ে আছি
মাছেদের অনুরোধে
মাছের সমাজ
জলতল ছেড়ে উঠতে আমাকে দেবে না
তারা চায় আমি স্থির শুয়ে থাকি চিৎ হয়ে—
কেননা আমার চিন্তা অল্পপ্রাণ, তাতে কিছু নাই
তাদের ঘোষণা—জলের গভীর চিন্তা অল্প জলে আমি করি
এই পাপ মাছের সরল জীবনধারা অ্যালাউ করে না
তারা চায় শুয়ে থাকা
অল্প গভীর কোনো পুকুরের তলদেশে, যার নাম নাই।

পুষ্করিনী ধরণীতে অসংখ্য অসংখ্য যার নাম নাই কিন্তু বহু তলদেশ আছে
আছে অল্প পানি ক্ষুদ্র প্রাণ পচা পাতা শামুকের খোল কিংবা
অবহেলা অকারণে মরে যাওয়া সুপ্রাচীন গোপন মাছেরা
কাঁটায় কাঁটায় তারা ঘুরিতেছে
জীবিত মাছের স্রোতে তাদের আভাস
অতি সূক্ষ্ম দেখা যায়
কাদার সমূহ স্তর এলোমেলো করে তারা উঠে আসে
নেমে যায়
ধীরে ধীরে ঘুরতে ঘুরতে
যেন তারা নাই
যেন তারা চলে গেছে—নিতান্ত শায়িত আমি
কোথা আছি
কেউ তা জানে না শুধু মাছেদের রাষ্ট্রযন্ত্র তটস্থ সমাজ
তারা জানে আমার স্ট্যাটাস
কিন্তু তাদের অত তাড়া নাই
কম্পাস দণ্ডের প্রায় শুয়ে থাকা মানব শরীরে
পরিত্রাণ দিয়ে যায় জীবিত মাছেরা—
তারপর উর্ধ্বে ওঠে
পুকুরের পৃষ্ঠ থেকে চর্তুদিকে নির্বাপিত লোকালয়ে বন্দি সব গাছ দেখতে যায়
তারা দূর আর নিচ থেকে গাছেদের বিশ্বরূপ দেখে
আবার নিকটে আসে
মাছেদের সন্তরণ দেখা ছাড়া আর পানি আছে
ঘোলা ও স্বচ্ছ রূপে একই জল
সূর্যালোকে বিধাতা বঞ্চিত আমি পানি দেখি
পানিদের নেমে আসা দেখি—দেখি
সূর্যালোক নেমে আসে পানিপথে তাই সূর্য দেখি বলা যায়, তাই বলা যায় আমি জীবিত বা মৃত
একান্ত জীবিত কিংবা মৃত আমি নই,
যদি ভাসমান কিন্তু শায়িত আমি পানির গভীরে
আমি যেন বা পাথর
পাথর বিষণ্ন কোনো নদীপথে সাঁঝবেলা
ঝরাপাতা স্তূপ। যেন সকলই আমার মধ্যে—আমি সব রূপ
আমি একা একা দেখা দেই, শীত গ্রীষ্ম শরৎ হেমন্তে আমি
নিজে দেখা দেই—পুকুরের তলদেশে
আরো বহু পুকুরের গোপন সন্ত্রাস পথে, যোগাযোগে, আমি ভাসমান
অল্প গভীর কোনো পানিদের তলদেশে,
আমার এই স্থির সন্তরণ
আত্ম ও অপর সব নিজ নিজ জলের গভীরে স্থিত ভাসমান শুয়ে থাকা নয়শো বছর
যেন কোনো মাছই আমি
প্রাগৈতিহাসিক কোনো শুয়ে থাকা পাথুরে নদীর
অথবা শ্যাওলা দলে শ্যামা পোকা কাঁপিতেছে
উর্ধ্বে কোনো জলযান
মলিন কাঠের তৈরি
আমার ওপরে।
বোমারু বিমান থেকে নিজেকে বাঁচাতে
আরো নিচে নামতে চায়
আরো বেশি অহিংসতা চায়,
যেন কোনো কচুরিপানাই কিংবা ঝোপের আড়াল তাকে রক্ষা করবে
এমন নিযুত আশা
আমার প্রতিই। কিন্তু দেখো, সব দৃশ্য আধা আধা—
আছে আর নাই যেন এক সঙ্গে অভিনীত
দর্শকবিহীন।
কিংবা আছে মহাকাল,
বেখেয়ালে দেখিতেছে,
পৃথিবীর ধ্রুব রূপ নিত্য বদলের—

অবিরাম খোলা চোখে এসবই দেখতে হচ্ছে,
তাই আমি দেখতে থাকি। হয়তো দেখি না—
হয়তো শুধু স্বপ্নে দেখি এইসব
যেহেতু পানির মধ্যে, নিচেও তো, তাই মাছ স্বপ্নে দেখা দেয়—
অথবা বাস্তব তাই মাছের ভাষায়, কথা বলে, সঙ্গ দেয়
কিন্তু সবই আবছা আবছা, জলীয় টলীয়—

আমার শায়িত এই জীবদেহ, জলমধ্যে
মাছের বাহিনী
মারে ও জীবিত রাখে
ঠুঁকরে দেখে যায়
কীভাবে বা প্রজাতি বদল ঘটে তাদের পরীক্ষাগারে,
কীভাবে জটিল জৈববস্তু—চিন্তাশীলও—গভীর জলের মধ্যে
চেতনা হারায়।

৬ ডিসেম্বর ২০১৫

Categories
কবিতা

ভেরি ফিশি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

একটাও মাছ না পাইলাম যে কতই চমৎকার
হি হি কতই চমৎকার!

একটা মাছ পাইয়া ফেললেই কমত চমৎকার
শেষে কমত চমৎকার

দুইটা মাছ ত পাইতে হইলে হইত সাধারণ
আহা সব কিছুই তখন কিন্তু হইত সাধারণ

তিনটা মাছের প্রাপ্তি আমার ঘটল অকারণ
মানে, পাইলে তাইলে বলা যাইত
দুলাল ভাইয়ের তিনটা মাছের কারণ অকারণ

চাইরটা মাছের ধরা পড়া বড়ই অত্যাচার
যে জন একটাও মাছ পাইল না হের চাইরটা মাছের গাছ—
এ কি কুকিল নাকি দোরা কাউয়া
যে তুমি পানির নিচে হাত পাতলেই কান্ধে দিব ডাক

ইটস এ বেঙ্গলিয়ান ক্যানাডিয়ান ফিশিং ফিশিং ফাক!

২১/৯/২০১৫

Categories
কবিতা

আমাদের সহজ পৃথিবী

পৃথিবী মানুষদের থাকবার জায়গা। তারা এখানে ঘর বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে। মানুষের অনুমতি নিয়ে কিছু পশু পাখি মাছ ও কীটপতঙ্গও থাকে পৃথিবীতে।

অনেকগুলি গাছও আছে পৃথিবীতে। ওরা মাটিতে ঢুকে পৃথিবী থেকে আকাশের দিকে ঝুলে থাকে।

অনেক গাছগুলি যখন একত্রে বসবাস করে ওদের জঙ্গল বা বন বলা হয়। পশুপাখিগুলি সাধারণত জঙ্গলের গাছগুলির নিচে দৌড়াদৌড়ি করে ও ঘাস খায়। কিছু পশু, যেমন বানরেরা, গাছগুলির উপরে ওঠে ও কখনো সেখানে বসে থাকে।

পাখিরাও গাছে বসে। এবং ওরা অনেক, মানুষদের থেকেও বেশি কথা বলে।

মানুষদের সাধারণত গাছের নিচে বসতে দেখা যায়। মানুষ জীব হিসাবে লাজুক প্রকৃতির। তারা সচরাচর তাদের যৌনাঙ্গ ঢেকে রাখে।

তবে মানুষ খুব কম জঙ্গলে থাকে। তারা শহরে থাকে ও গ্রামে থাকে। মানুষদের বেশির ভাগই ভাত খায়, আটা খায়।

মানুষের চামচামি করার জন্য পৃথিবীতে কুকুর নামে এক ধরনের জীব কিনতে পাওয়া যায়। একবার একটা কুকুর কিনলে মানুষেরা সারা জীবন সেই কুকুর দিয়ে তাদের বাসাবাড়ির অনেক কাজ করায়। যেমন বাসা পাহারা দেওয়া।

বাসা পাহারা দেওয়ার জন্যে কুকুরেরা গলায় বেল্ট পরে বাসার সামনে চরকির মত ঘুরতে থাকে। তখন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবলা বুদ্ধিজীবীদের মত দেখায়।

৪/৯/২০১৫

Categories
কবিতা

বহুগামী কবিদের টাইডাল ওয়েভ

বুঝছো—তুমি একটি বারই ব্রেক আপ করবা
বয়ফ্রেন্ড ছেড়ে আইসা পড়বা
বিকালের আগেভাগেই।

এরপর আমরা দুইজন মিলা
ঘুরতে থাকব ছন্দে
ডানে তাকাইব আনন্দে আর বামেও তো
একই আনন্দ।

শাহবাগেই কত পরীরা ঘুরছে,
ওরা ছোট কবিদের বন্ধু,
তোমারে ছাড়াও ওদের সঙ্গে করব—
বেংলা কবিতার মায়রে চুদব
পেয়ারার গাছে দাঁড়কাক আছে
চোদাচুদিময় বাংলা!

মেয়েদেরই দিকে তাকাইয়া থাকব, আমরা—
অন্য কারো কি এসব ব্যাপারে মতামত নিব,
কামু কী বলেন আপনি?

১৪/৬/২০১৫

Categories
কবিতা

রাস্তায়

সকলে যেদিকে দৌড়ে চলেছে
সেদিকে তুমি কি যাবা না না নাকি?
ভোরবেলা ছিল অন্য রকমই
যত দিন হলো
আগেকার সব ঘটা ঘটনারা
একে একে সব ঘটতে চলেছে?

এখন আবার ধুলায় বসিয়া
কানতে থাকবা
ওগো পাঠকিনী?

এই এই করে কত দিন গেল
তোমার আগেই পৃথিবীর চাকা
সে সে পথ দিয়ে ঠিক চলে গেছে
তবে এও ঠিক
চাকাদের দিন অল্প দিনেরই। তবু,
তার আগে যদি ফিরিতে না পারো
পথেই তোমার দিবস ফুরাবে
বড়জোর তুমি জীবনানন্দের
গ্রেট কবিতাই পড়তে থাকবা
ভাবতে থাকবা গ্রামে গেছো গিয়া।

গ্রামে কারা পড়ে জীবনানন্দ?

৭/৬/২০১৫

Categories
কবিতা

কবির দল

দেখো বয়স্ক আর হাড্ডিশুখনা রামকবিদের দল
পরস্পরের পাখনা ধরে ঘোঁট পাকিয়ে পরস্পরে
রাজার ক্ষেতের পাড়ে
যেন উবে যাওয়ার আগমুহূর্তে
পায়ের পাতা শক্ত করল
মার্তৃগর্ভ ছেদন করল
তারপর তারা দাঁড়াল ভয়ঙ্কর।

যারা জায়গা পায় নি সামনাসামনি
রাজার চাইতে একটু বয়স কম
তারাও ক্ষেত ছাড়ে না
ক্ষেতের পাশেই একাডেমি
সেথায় সভার কাছেই
রাজার দিকে তাদের লম্বা হাত বাড়ানো
কাউয়া এসে বসেছে দীঘল হাতে—
তাদেরও আশা পূর্ণ হলো
রাজাটি যখন হাসিল উত্তরে।

আর ওই যে বাচ্চা কবির তরুণ ছবির করুণ দেখা পাওয়া—
তাও যাচ্ছে পাওয়া।
ওরাও, তেমন তরুণ যদিও নয়,
তবু বড় কবিদের লাগোয়া দল ওরা—
ওরা ছাপাই দঙ্গল—
ওরা নাতি কবি নাতনি কবি
আরো কবিদের সঙ্গে নিয়ে
ফুলের দণ্ডসম ওই তো ঝকমকাচ্ছে—
যেন ফুলের দলটি
কাকে দেবে আর কাকে দেবে না
নিজেদের ওরা ঠিক রাখতে পারছে না।

এরই মধ্যে
এদের মালিক যারা
ইন্ডিয়ারা
যেই,
বিমান থেকে নামিল ঢাকা ক্লাবে—
প্রথমে একজন পদ্মশ্রীই তো দৌড়ে গেলেন
তারপর গেল ফুলের দলটি
ততঃপরে মাঝারি কবি হেলতে দুলতে
বড় কবিরা রাজাটি সঙ্গে করে।

না, মহাভারত থেকে মোদীর সঙ্গে
পাইকার কোনো কবি আসে নি তাই
আপাতত তারা কুর্নিশিবেন ক্লাবে,
দেবেশ রায়ের দ্বারে।

৫/৬/২০১৫

Categories
কবিতা

নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ: আ জার্নি বাই বোট (২০)

এই বেলা অনেক ডিস্টার্ব হইল
জলে স্থলে নিরানন্দ
আকাশে বাতাসে নাহি গান
এভাবে বাঁচবার কোনো দরকার আছে কি
গুরু
যদি মনের ইচ্ছা
নদীর এ স্বচ্ছ জলে দাগ না কাটিল
এই বেলা
গুরু তবে জলে ঝাঁপ দেই?—বলিলা কর্তব্যরতা
আনন্দশায়িনী এক
গুরুর নৌকার।

গুরু কয়, কয় কী কয় কী!
জল, স্থল, নিরানন্দ, আকাশ, বাতাস, গান
এ তো দেখি মহিলা কবিটি—
এ মাগীর কাম
সাপ্রেসড হইয়াই আছে
এরে চোদা  দাও!

তখন সে ইচ্ছায়িনী, শরীরিনী, নিরানন্দটিনী
বলল, গুরু সত্য সত্য আমাকে করবেন?
কিন্তু আমার তো আপনার এই পাপের নৌকায়
শরীরের অভাব ঘটে না—
আমি দিবারাত্র উপর-নিচ করতেই থাকতেছি
আপনার নায়ের সব সারেং, কাপ্তেন,
খালাসি, ডুবুরি, মাল্লা সকল খান্নাছ
সহিবার ভার
এ আমার ছোট্ট দেহ ধারণ করেছে,
আজো আমি রাত্রিবেলা
ঘুমাবার কালে
জাহাজের রান্নাঘর সংলগ্ন সিঁড়িতে
দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে আমি আজই তো করলাম
প্রাইভেসিতে শ্রদ্ধার মানবিক কারণে আমি সে পুরুষাঙ্গের
মালিকের নামটি বলছি না।
কিন্তু গুরু, বিশ্বাস করেন
এত জাপটাজাপটি
সাপটাসাপটি, লেপাটালেপটি, গমনাগমন
এতে কোনো আনন্দ ঘটে না
করলেন কি করলেন না দিয়া
বস্তুত শরীরের চোদা খাওয়া দিয়া গুরু মনের ইচ্ছার
প্রভাবনা পরিবেশে আদৌ পড়ে না
আদৌ সঞ্চার হয় না সকালের সূর্যের আনন্দ কিংবা শিশুর সারল্য অর
যেমতি সাঁঝের কালে দূর দিয়া পাখির উড়াল
আমারে কী জানি দেয়
সে সমস্ত এই খানে চিরতরে হ্যাং হইয়া আছে;
ঘাটে বান্ধা জাহাজের দুলুনিতে আমার চিত্তে কোনো দোলা তো লাগে না—
খানিক ঘুম পায়, ভাবি ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে
জাহাজে ঘুরতে আছি
গুরু আমি জাগনা না ঘুমাইন্না?

২৭/৩/২০১৫

Categories
কবিতা

যাইও না যাইও না রে

ও ভাই সুশীল রে

আইল দেশে সিপি গ্যাং
কান্ধে লও ভাই ভাংগা ঠ্যাং
তোমার শহীদ মিনার
তোমার শহীদ মিনার তোমার যাওয়া হইল না

ও ভাই সুশীল রে

ভাই রে সুশীল বুঝছ নি
তোমার গানের গোয়া
তোমার গানের গোয়া মাইরা দিল
সিপি গ্যাংয়ের গ্যাংগানি

ও ভাই সুশীল রে

দেইখা জুতার তলানি
না চমকাইয়ো এক্ষুনি
তোমার জন্যে
ওরা তোমার জন্যে নিয়া আসবে আস্ত জুতার কারখানা

ভাই রে সুশীল রে

১১/১১/২০১৪

Categories
কবিতা

থাকো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, নিরাপদ দূরত্বে

উৎসর্গ: ইমতিয়াজ আলম বেগ

যদি তুমি কার্জন হলে
যদি তুমি শহীদুল্লাহ হলে
যদি তুমি বহিরাগতই
অন্তত তোমার তো
নামকরা নাম
থাকা তো দরকার
অন্তত যদি বা
মাইর খাইবার পরে
যদি তুমি সে দিয়া
ঠসা বসা মিডলক্লাসেরে
খাড়া করতে চাও
কেননা শিক্ষিত
লোকেরা বলো তো
শিক্ষিত লোকেরে
মারিতে কি পারে
যে জন দিবসে

৬/১১/২৯১৪