Categories
বিষয় ব্রাত্য রাইসু

রাইসুকে নিয়ে যৎসামান্য

২০০৩ বা ০৪ বা ০৫ বা ০৬—তখন আমরা বাংলা কবিতার মাস্তানি রপ্ত করছি। উন্নাসিকতার চির সজারু কাঁটা সারা দেহের লোম-চুল-বাল। কলমকে কলম মনে হয় না, ঘরে বানানো হাতবোম মনে হয়, যেখানে-সেখানে ফুটে যে কোনো মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়াতে পারে চারপাশে। আমাদের সময়ের আগে জন্মানো সব চিন্তা, শিল্প, কবিতা থেকে ব্যায়ামবিদের গাঁ গুলানো ঘামের গন্ধ পাওয়ার মত নাক নিয়ে আমরা শাহবাগের দারোয়ান। রশীদ খান আর ভীমসেন যোশি আমাদের নিজস্ব জাতীয় সঙ্গীত গায়। সূর্যাস্তের আগে যখন রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পতাকা ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তখন ভাবি সকল পতাকাদণ্ড আমরা গায়েব করে দিব।

আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কনফিডেন্স ব্যাপক, প্রবল। সাহিত্যের রথীরা আমাদের এড়িয়ে চলে। কিছুতেই তাদের আমাদের ভালো লাগে না। তাদের দুচারটা পোষমানারাও আমাদের এড়িয়ে চলে, যেহেতু প্রভুভক্ত ঘেউ পাচাটা মারার অধিকার আমাদের ছিল।

আমাদের আড্ডা আজিজের নিচতলার হোটেলে। সেখানে যে চা দিয়ে যায় তার নাম আমরা রেখেছিলাম বিখ্যাত এক কবির নামে।

মৃদুল মাহবুব

সেই সমস্ত উত্তাল লাল বারুদ মাখা দিনগুলোতে লাজুক সেনাপতি বেশে মাসুদ খান আসতেন বিরাট সরকারি গাড়ি চেপে, ইন-করা ফিটফাট কবি। আশির দশকের সবচেয়ে পাত্তা পাওয়া মিষ্টভাষী কবি আমাদের আড্ডায়। নিজের কবিতা বাদে বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো হিন্দু-মুসলিম কবি নাই যার কবিতা চা খেতে খেতে তিনি পড়েন নাই। বৌদ্ধ কোনো কবির কবিতা তিনি পড়েন নাই আজ মনে পড়ছে। সেই সমস্ত আড্ডায় মাসুদ ভাই আমাদের একটু একটু ব্রাত্য রাইসু খাওয়াতে চাইতেন চায়ের সাথে সাথে, চা দিয়ে পুড়ি যেভাবে খায়।

যেহেতু প্রতিরোধ গড়ার মত কম বয়স ও চক্ষুলজ্জাহীনতা আমাদের প্রবল মাত্রায় ছিল সেজন্য রাইসুর কবিতা তেমন একটা বেল পায় নি আমাদের হৈচৈময় দিনগুলোতে।

কেন পায় নি?

‘খাইছি’, ‘করছি’ এই সব ক্রিয়ার কাণ্ডজ্ঞানহীন কাণ্ড কবিতা তৈরি করার প্রজেক্ট ছাড়া তেমন কিছু বলে মনে হতো না। ‘পূর্ববাংলার ভাষা’ নামক যে তকমা বাজারে চালু ছিল তার সবচেয়ে বড়  অ্যাপ্লাইড প্রজেক্ট হলো ‘আকাশে কালিদাসের লগে মেগ দেখতেছি‘। তাই পূর্ববাংলার ভাষা আন্দোলনকারীদের কাছে রাইসু একটা নামই সে সময়। সব থেকে সফল প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি)। জোর করে নতুন কবিতা হিসাবে চালানোর এই সমস্ত রাইসুর চালাকি, হারামিপনা।

আমরা বলতাম ডিপজলের পূর্ববাংলার ভাষায় লিখিত তার এইসব কবিতার মধ্যে এক রকম গায়ের জোর মার্কা ভিলেনি আছে; ইঞ্জিন গরম, সান ডে মানডে ক্লোজিংয়ের হাস্যরস আছে। কবিতাকে এত শস্তা আমরা হতে দিতে পারি না আমাদের চোখ লাল সিজনে। আমরা কয়জন আজিজের একই ইউনিফর্ম পরিহিত দারোয়ান; এভাবে শিল্প চুরি হতে দিতে আমরা পারি না।

স্যাটায়ার বাংলা কবিতায় নতুন এমন কিছু না। রাইসুর কবিতা বড়জোর ট্রাডিশনাল স্যাটায়ার কবিতা, যা বহুকাল আগেই লিখিত বাংলায়। পাঠ্যপুস্তকের সফদার ডাক্তার টাইপের শিশুতোষ স্যাটায়ারের ষোড়শ ভার্সন রাইসুর কবিতা; ঊণউন্নত, ক্ষেত্র বিশেষে বহুমুখীর ভান ধরা, ধামাটে। রাইসু সেই আবহমান বাংলা কবিতার স্যাটায়ারের একটা অপভ্রংশ মাত্র। সেই ২০০৩ কিংবা ০৪ বা ০৫/ ০৬ সালে রাইসুর কবিতা মাপার জন্য আমার গজফিতায় বড়জোর এক ইঞ্চি ছিল কিনা সন্দেহ আছে। সো, রাইসু, নো বেল , নো পাত্তা। ‘আকাশে কালিদাসের লগে মেগ দেখতেছি’ হলো মরা বাড়িতে শোক না করে হাস্যরস করার মত জাত ফালতুমি, অতি ভিন্নতার মাইকিং।

এই সমস্ত নিয়ে তর্কাতর্কির পর মাসুদ ভায়ের বিনীত গুরুগম্ভীর অনুরোধ—তারপরও আমরা যেন রাইসুকে আবার পড়ে দেখি সময় সুযোগে। কবিতার উপর আস্থা তখন ধর্মবিশ্বাস পর্যায়ে। সেই সময় রাইসুর ‘আকাশে কালিদাসের সাথে মেগ দেখতেছি’ বাজারে বিরল। মাসুদ ভাই সেই বইয়ের একটা কপি মগবাজারের মোড়ে দাঁড়িয়ে আমাকে দিয়েছিলেন। তা আর ফেরত দেওয়া হয় নাই। আমার ফেরত দেবার ইচ্ছা জাগার আগেই তিনি দেশ ছেড়েছেন। এই কপি আমি একদিন নিলামে তুলবো এবং সেই টাকা দিয়ে ‘রাইসু কালিদাস’ পদক প্রদান করবো আমাদের মত আগুন লাগা বয়সী তরুণ দুস্থ কবিদের কোনো দলকে যারা সেই টাকায় অন্য কোনো বড় কবির তত্ত্বাবধানে চা খাবে আর ওয়াক থু থু করবে আমাদের সময়ের কবিদের কবিতা পড়ে। তাদের রক্তের রঙ হবে আমাদের মতই গাঢ় নীল।

তবে সেই সময় জনাব রাইসু সম্পর্কে আমার যে বিরাট জ্ঞানগর্ভ ক্রিটিকাল মনোভাব ছিল তা এখনকার যৎসামান্য উপলব্ধির হিসাবে নিতান্ত ফালতু ও বাজে মনে হয়। কবিতা নামক ধর্মচর্চার নানা রকম সীমাবদ্ধতা ছিলো বৈ কি! সময়ের সাথে সাথে সময়ই পাল্টায়, নতুন চিন্তা জন্ম হয়। কবি হিসাবে ব্রাত্য রাইসু মূল্যবান আমার কাছে এখন। কেননা বড় কবি হবার নানা উপসর্গ এবং সেই রোগটা তার ছিল এবং এখনও যেহেতু তার বয়স মাত্র ৫০, সেজন্য ধরে নিচ্ছি বড় কবি হয়ে ওঠার জন্য তিনি আরো ৩০-৩৫ বছর পাবেন।

কেন তিনি বড় কবি হয়ে উঠবেন বা গুরুত্বপূর্ণ এখনই তার কারণ পরে বলি।

একটা বয়সে মানুষ দল বেঁধে ভাবে, দল বেঁধে খায়, দল বেঁধে প্রেম করে, ঘৃণা করে, দল বেঁধে স্বপ্নে বিছানা ভেজায় ও দল বেঁধে বানরের মত কিচির মিচির করে গাছের ডালে ঝোলে। সো সেই সমস্ত চিন্তা যত না ব্যক্তিগত তার থেকে বেশি দলগত। একটা বয়সের পর একটা বিচ্ছেদ, ছেদ, নির্জনতা, ব্যক্তিকেন্দ্রর ঘোর লাগে। এই নির্জনতার সাংগ্রি-লায় বসে বাংলাভাষী নানা কবির কবিতা নিয়ে ভাবতে গিয়ে রাইসুর কবিতা নিয়েও ভেবেছি।

দেখলাম, রাইসু নামক একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সমবায় সমাজ ও টিনের চশমা লাগানো তার অনুগামীরা তাকে কবি না ভেবে চিন্তক ভেবে বসে আছে।

এটা নিতান্ত রাইসুর অবমূল্যায়ন, তার বিরোধী বা অনুগামী দুই তরফ থেকেই। সে যতটা কবি ততটা চিন্তক নন। রাইসুর চিন্তা খাপছাড়া। চিন্তা বিষয়টা একে অপরের উপর নির্ভর করে যৌথভাবে আগায়। রাইসুর চিন্তাপদ্ধতি অনেক বেশি ব্যক্তিগত রাজনীতি নির্ভর; অনেক সময়ই সমর্থন বা বিরোধিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই সমর্থন বা বিরোধ চূড়ান্ত নতুন কোনো চিন্তার জন্ম দেয় না। এটাই হয়তো এই সমাজের একটা ট্র্যাজেডি, না হয় বড় কমেডি যে রাইসুর মত বড় কবিকে চিন্তক হিসাবে ধরে নিচ্ছি।

তার কুতর্কের দোকানের অন্ধকারের উপর যে কবিত্বের আলো সে, এই নাগরিক ঢাকা শহর তা ধরতে পারে নাই। ভাষা বিষয়ক তার জ্ঞান ভাসা ভাসা, উপরি উপরি। যত না কুতর্ক পাঠ সমাজের, ততটাই কম রাইসুর কবিতা পাঠক। বা ততটা কবিতাও সে লেখে নাই হয়তো। রাইসু যতটা স্মার্ট তার ফলোয়াররা ততটাই ক্ষ্যাত, গ্রাম্য, স্বল্পস্বশিক্ষিত। লেখকের ৪০-এর পর একটা সময় আসে যখন সে তার ফলোয়ারকে সার্ভ করতে চায়। আমার মনে হয় রাইসু ভায়ের ক্ষেত্রে তেমনই হয়েছে। তিনি তার অকালচার্ড ফলোয়ারদের না পারার অবচেতনকে নারিশ করতে করতে, তাদের ভ্যালুটাকে মুভ ফরোয়ার্ড করতে করতে অনেক বেশি সরে গেছেন কবিতা থেকে কুতর্কের দিকে।

এটা হয়তো তার সিক্রেট প্লেজার। সাধুর যেমন প্রাপ্ত বয়সে চুরি করতে গেলে লিঙ্গোত্থান হয়! একজন লেখককে তার নিজের ভ্যালুটাকেই ইলংগেট করতে হয়। পাঠকের দায়িত্ব নিতে গিয়ে তাকে শেষ হয়ে যেতে হয় কখনও কখনও। সব কিছুই ব্যক্তির চয়েস। হয়তো এইটাই রাইসু চায়। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তার মধ্যে সন্মোহন করার ক্ষমতা আছে, হেড টু হেড টেল টু টেল এর প্রতিলিপি তিনি তার ফলোয়ারদের দিয়ে লেখাতে পারেন।

নকলের একটা সীমা থাকে! কিন্তু তার চিন্তা বা কবিতার ভঙ্গি বা তার ভাব বহু নবীন নবিশদের নকল করতে দেখেছি। তারা চৈনিক জাতির মত কপি করতে পারে হুবহু রাইসুকে। ফলে রাইসুর অনেক কবিতা ও চিন্তা তার ফলোয়াররা লিখে দিচ্ছে নিজেদের নামে। সেই অর্থে রাইসুর নিজের কবিতা তিনি শুধু নন, তার ফলোয়াররা লিখছেন। এইটা যে কোনো কবি জীবনের বড় পাওয়াই তো বটে। এবং বড় কবির সময়কে প্রভাবিত করার যে ক্ষমতা থাকে তা তো এটাই।

বাংলাদেশের সাহিত্যের কয়জন কবি দিয়ে সমকালের ছোট ছোট পোলা-মেয়ে কবিতা যশঃপ্রার্থীরা প্রভাবিত? তেমন নাই। কিন্তু রাইসুর কবিতা ও চিন্তা অনুকরণকারীদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫। আপনি তার যাই বিরোধিতা করেন না কেন, এটা ভেবে দেখা দরকার।

কথা হলো, কী এমন আছে তার কবিতায় ও ভাসা ভাসা খণ্ডিত চিন্তায়?

রাইসু যে ভাষায়, যে বিষয়ে, যে অনুসঙ্গে, যে উপমায় কবিতা লিখেছেন, আরো সোজা ভাবে বললে তার কবিতা করার যে সিলেকশন ও চয়েজ, ফ্রি উইল তা কয়জন বাংলাভাষী কবির আছে এই বঙ্গ ভাষায়?

এ লেখার জন্য সাহস ও ঝুঁকি দুটোই লাগে। বাংলা কবিতায় এই রকম ঝুঁকি খুব কম কবিই নিয়েছেন।

তার আগে-পরের অধিকাংশ কবি গড়পড়তা সচল ট্রেন্ডি কবিতার রিমিক্সে সমকালে হাততালি দেওয়া কবিতা বা অধিক অর্থপূর্ণ নিরীক্ষা লিখে লিখে নিজেকে মাঝারি মাপের কবি হিসাবে সাহিত্যের সমবায় সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

রাইসুর সময়ের কবিতার ঘ্রাণময়, প্রাণময়, শিল্পময় বাগানে সে একটা কালো কাউয়া; প্রবল ও প্রখর তার কণ্ঠস্বর। দূর থেকে শোনা যায়। বড় কবিরা সচলতার বিপরীতে কবিতার ভাষা ও চিন্তা নিয়ে বড় ধরনের সাহস ও রিস্ক নেয়।

উৎপলের ‘চৈত্রে রচিত কবিতা’ স্বাভাবিক বাংলা কবিতা ভাষার বিপরীতে লেখা। জীবনানন্দ শাসিত যে বাংলা কবিতার শিল্পসম্মত হেজিমনি তার মধ্যে একটা ঝাঁকুনি উৎপলের কবিতা। বাংলা কবিতার ভাষা রিঅর্ডার হলো উৎপলের কাজের মাধ্যমে। বা জহর সেন মজুমদারের প্রবল একটা কবিতাগ্রন্থ ‘বৃষ্টি ও আগুনের মিউজিকরুম’। প্রজন্মকে ভিন্ন কবিতা লেখার সাহস দেয়। চলিত কবিতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের মত,  স্রেফ নিজের মত লিখে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেবার মত কতজন কবি এ সময়ে আছে!

রাইসু বাংলা কবিতার সহজ জাগানিয়া ওয়ান আয়রন ম্যান আর্মি। তার সবচেয়ে বড় শক্তি তিনি আবহমান শিল্পিত কবিতা লিখতে চান নাই, লিখেন নাই।

বড় শিল্প ইনডিফারেন্ট। রাইসুর হাতে বাংলা কবিতার রিনিউয়্যাল হয়েছে। এর বড় কবিরা তার লেখা দ্বারা শিল্পকে অনুপ্রেরণা দেয়, নিজের মত লিখতে থাকার শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে ঘাড়ের উপর হাত রাখে তারা। এটাই বড় কবির কাজ। কতটা ভালো কবিতা, শিল্পসম্মত কবিতা লেখা হলো সে বিচার কোনো বিচার না। কেননা কবিতার মত শুনতে ভালো-ভালো কবিতা বহু লেখা হয়েছে। এই সমস্ত অবাল কবিতার দরকারই বা কী আর। যে পরিমাণ ভালো শিল্পিত, নন্দিত, ছন্দিত কবিতার জন্ম হয়েছে তারপর এই রকম ভালো কবিতা আরও দুইশ বছর না লিখলেও চলে।

“বাংলা কবিতায় ‘আকাশে কালিদাসের সাথে মেগ দেখতেছি’ একটা বিরল ঘটনা। চিন্তায় ও ভাষায় এটা নতুন।”

কবিতা মানে ভাষা ও চিন্তা। সেই ভাষা চিন্তা সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়। সবাই এই পরিবর্তনে শরিক হতে পারে না। বাংলা কবিতায় ‘আকাশে কালিদাসের সাথে মেগ দেখতেছি’ একটা বিরল ঘটনা। চিন্তায় ও ভাষায় এটা নতুন। এইরূপ যা লেখা হয়েছে তা বড় প্রাণহীন, শব্দ-কসরৎ। এই রকম ভাষায়, বিশেষত মৌখিক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে আরও দু’একটি কবিতার বই আছে। সেগুলো সেই অর্থে কবিতার বই হয়ে ওঠে নাই। সেই তুলনায় রাইসুর কবিতা সজীব, জীবন্ত, কচি কচি।

পাঠকের কবিতা সম্পর্কিত যে ভ্যালু তাকে একটা ধাক্কা দেয় রাইসুর কবিতা। একটা নতুর চিন্তার জন্ম দেখা যায়। এক নতুন দার্শনিক জীবনের দিকে যাত্রার ইন্সেপাইরেশন তার কবিতাগুলি। যা তার কুতর্ক থেকে বহু গুণ শার্প, স্মার্ট। আর এইসব নতুন কবিতা ভালো লাগা, না-লাগা রুচি নির্ভর একটা ব্যাপার। এই সমাজে অধিকাংশ কবিতায় কোনো দার্শনিক উপলব্ধি নাই, দৃষ্টিভঙ্গির কোনো নতুনত্ব নাই। খালি কথা আর কথা, আপ্তবাক্য, শক্ত শক্ত শব্দ, অতিপ্রতিজ্ঞা, ছন্দ আর ইমেজি ঝনঝনানি। এই সমস্ত বর্ণনাক্রান্ত দেওয়ালে টানানো ছবির মত কবিতার বিরুদ্ধে রাইসুর কবিতার দার্শনিকতা, তার ভাষা ও প্রকাশনামা অতিনতুন লাগে আমার কাছে। এতগুলো বিষয় একসাথে বাংলা কবিতায় কম।

কাদের কবিতায় আছে বলুন? সেই হিসাবে সে বড় কবির লক্ষণ নিয়ে হাজির আছে সুসাহিত্যিক সমাজে। এমন সুশীলতাহীন ভাষায় কবিতা লেখার সাহস এবং তার সফলতা বড় বিষয় হিসাবেই আমি দেখি, অন্তত টিল নাউ।

এটাই তার কবিতা নিয়ে আমার যৎসামান্য ধারণা।

বুুড়া কবিরা কম বয়সী কবিদের নানা কুপরামর্শ দেয়। কিন্তু এই থাম্বসরুলের বাইরে আমি রাইসুকে দুই তিনটা পরামর্শ দিতে চাই।

নিজের কবিতাকে নিজের ছাড়িয়ে যাবার কিছু বিষয় থাকে বড় কবিদের মধ্যে। নিজেকে রিনিউয়্যাল করা লাগে।

রাইসুর প্রথম ও শেষ কবিতার বইয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কম। কবিতায় নতুন রাইসুর দেখা যেন পাওয়া যায়। ব্রাত্য রাইসুকে তার ক্ষ্যাত, চূড়ান্ত আনস্মার্ট ফলোয়ার দলকে এখনই এড়িয়ে যাওয়া দরকার তার নিজের প্রয়োজনে। কেন তা আগেই বলেছি যদি তিনি বুঝে থাকেন।

তার উচিত জীবদ্দশায় কম দামে নিজের বইপত্র ছাপানো। কথা কম বলে আরও কিছু লেখা লিখে ফেলা দরকার তার বয়স ষাট হবার আগেই। ষাটের পর লেখকরা নিজেই নিজের রিপিটেশন করে। নতুন কিছু হয় না তেমন একটা। হলে তার উদাহরণ কই? তিনি তার সচল বয়সে অনেক চিন্তা-ভাবনা করছেন। সেগুলোর বই আকারে প্রকাশিত রূপে থাকলে তাকে পাঠকের বুঝতে সুবিধা হয়।

তার চিন্তার বিপরীতে সমাজকে চিন্তার সুযোগ দিতে হবে। এত বছর লেখালেখির পর নিজের লেখাপত্রকে সুলভ করে রাখা ভালো। ৫০ বছরে তার লেখালেখি অতি সামান্য, তিনি যেন ভুলে না যান যে তিনি রিল্কে নন।

এইগুলো তার মত ৫০ বছর বয়স্ক কবির প্রতি আমার যৎসামান্য পরামর্শ।

Categories
কবিতা

মরণ ভালো

মানুষের মৃত্যু ভালো

তাই মৃত্যু হোক

সকলের।

ঘরের দরজা থেকে

যে মুহূর্তে পা ফেলেছো

বাইরে তুমি

শিশির বিন্দুগুলি

দেখবে বলে

শিশির বিন্দুগুলি

দেখার আগেই—

হোক তবে তব মৃত্যু

ছাদ ধসে, লিফট ছিঁড়ে

সিঁড়ি উল্টে গিয়ে।

 

মৃত্যুর দাপট থেকে

অকপট

বাইরে বাইরে থাকো তুমি

ঘর থেকে বাইরে যাও

বাইরে থেকে ঘর

এমন বিচিত্র বিশ্ব

তোমার সুন্দর—

অকারণ ধসে যাক

ধূলিকণা হয়ে যাক

পড়ে থাক পথের ধূলিতে

তব ছিন্নভিন্ন দেহ

প্রভুর সকালে।

 

প্রতিদিন গড়ে উঠছে

বেড়ে উঠছে

ফুলে ফলে ছেয়ে যাচ্ছে বাজারে বাজার

ছোট মেয়ে স্কুল থেকে

ফিরে আসছে ঘরে

হাতে ফুল, স্কুলব্যাগ

পথে মারা যাক!

 

তোমার সন্তান থাকে

নিরাপত্তাময় বৈদেশে

মার্কিন শহরে

বা কানাডায়

বা অস্ট্রেলিয়ায়

বা কি লন্ডনে

পাতাল রেলের মধ্যে

মৃত্যুহীন ঘুরতে থাকে তোমার সন্তান

তারা মরে যাক

ডলার পাউন্ড সহ

খাক হয়ে যাক সব—

বিদেশে বিভূঁইয়ে।

 

সকলের মৃত্যু ভালো

তাই মৃত্যু হোক সকলের—

গাধাদের মৃত্যু হোক ঘোলাজলে, ডাঙায় সাধুর

স্টেডিয়ামে ঝাড়ুদার

তার সূর্য ওঠার আগেই

মরে যাক। চিৎ হয়ে পড়ে থাক সবুজে ঘাসেতে।

কবিদের মৃত্যু হোক বইয়ের দোকানে

অবিক্রিত বইয়ের পাশেই

সমাহিত থাক তারা

বর্ষা এলে রৌদ্রে দিতে হবে।

পৃথিবীর সুন্দরীরা মরবে নাকি

বিউটি পার্লারে?

রূপরসগন্ধহীন

আয়না ধরে ধরে।

মরার আগেই যেন

শ্যাম্পু তারা করতে পারে

যেন ভ্রু প্লাক করার পরেই

মৃত্যু হয় সব সব কপি সুন্দরীর।

 

আমাদের মৃত্যু হোক

শান্ত অপরাহ্ণে কোনো গাঙের ধারেতে

যেন কলসের থেকে জল

গড়িয়ে পড়ছি আমরা গাঙুরের জলে

যেন বজ্রপাত হলে

কিংবা না হলেও

ইশ্বরকৃপায় আমরা মরে যাব দলে দলে তুলসীতলায়

তুলসীতলায় গাব যমুনা কি তীর—

এ জীবন ছিল তাই

আছে মনে হয়, যেন

মৃত্যু এসে নিয়ে গেছে

অতর্কিত গুমঘরে, মর্গে কোনো

ম্যানহোলে

নর্দমায়, মর্গে কোনো

কিংবা স্রেফ র‌্যাবের গাড়িতে

হায় র‌্যাবের গাড়িতে!

কমদামি মৃত্যু ঘটে গেলে পরে পড়ে রইব

খালপাড়ে বাধপার্শ্বে লাউপাতা বিস্তারিত

গরিব জমিতে।

পড়ে রইবে দেহলতা পাশেই পিস্তল

রাষ্ট্র দেবে দোলা

খোলা হাওয়া বইবে ধীর

অসম্মানে

যেন আমি মৃত্যু ভুলে, আমবনে

জুঁইশাখে

রয়েছি জড়ায়ে। তাই

সকলের মৃত্যু যদি নাই বা হলো

পাড়ে যাওয়া

নাই বা হলো

আমারও হবে না, আমি বসে রইব এ শহরে

মৃত্যুর উল্লাস—

ছড়ায়ে ছড়ায়ে যাব

মৃত্যুর উল্লাস

যাতে

একটি মৃত্যুও আর

মৃত্যুরূপে প্রতিভাত

না হয় কখনো।

 

২৪/২/২০১১ – ১২/৩/২০১১

 

Categories
কবিতা

জলে মৃত্যু

যেন কোনো জাতিস্মর

অহেতু শৈশব নিয়ে

শুয়ে আছে

আকাশের

তারাদের নিচে

যেন কেউ আর নাই বহু বহু দিন ধরে

সমুদ্রের পারে যেন

রোদ নাই

ছায়া নাই

অন্ধকার

যারা ছিল চলে গেছে

তোমার যাওয়ার কোনো কিছু নেই

যে যেখানে নিয়ে যাবে

নিয়ে গিয়ে ছেড়ে যাবে

তেমন থামার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন নাই আর

অস্পষ্ট আলোর মত

তুমি অন্ধকার তুমি

যেন এই অন্ধকার বিকাল বেলায়

সময় হারায়ে গেল বেলাভূমে

বালুতটে

সমুদ্রের পারে

যেন কাশবনগুলি শুধু চেয়ে আছে

উদ্ভিদের মাতৃরূপ হয়ে

তারা সঙ্গ দেবে দূর থেকে

যেমন পানির শব্দ চারধারে

যেমন পাখির ঝাপটা

সন্ধ্যাবেলা

যেমন দিনের শুরু সন্ধ্যাবেলা

অকস্মাৎ

যেন এই ভিজা বালু

স্মরণ করছে তুমি কবে থেকে

কোথা থেকে

কখন জন্মের শুরু

কখন মৃত্যুর শুরু

শুয়ে আছো কোন সেই শতাব্দিরও আগে

যেন চাপা পড়া বালু শুধু

মৃত্যু মনে রাখে

যেন তোমার পিঠের নিচে

পায়ের তলায়

ঠাণ্ডা বালু কাদা কাদা

এ পৃথিবী জায়মান

তোমাকে জাপটে আছে

রিরংসার মত

যেন চুলের ছিটিয়ে থাকা

সমুদ্রের পার এসে

জোর করে

ভিজিয়ে দিয়েছে

তবু

তুমি শুয়ে আছো বলে

অন্য কিছু ঘটার কিছুই নেই

যেন করার কিছুই নেই

দূরে কালো সার বাঁধা পাহাড়েরা

দ্রুত যাচ্ছে চলে

বাতাসের অন্ধকার

চারপাশে প্রদক্ষিণ রত

হাওয়া জলকণা

সাজিয়ে রেখেছে

তুমি ভেসে উঠছো অতি ধীরে

যেন তুমি উঠছো না কোথাও

যেন

অন্ধকার ফুঁড়ে

আপন অক্ষ ধরে ঘুরে যাচ্ছে জীবদেহ

অনিঃশেষ

ঘুরছে না মোটেই

যেন চক্রাকার সংক্রামক

অবসন্ন কাল

আপনার তিরোভাব

নির্দেশ করেছে

এই আকাশের নিচে

এই তারকার নিচে

এই জটিল সমুদ্রবাষ্প অধ্যুষিত

বেলাভূমি ধরে

ফেলে যাওয়া পদচ্ছাপ

রয়েছে সান্ত্বনা হয়ে

যেন প্রয়োজনহীন মৃত্যু

আগুয়ান

যেন এই মৃত্যু সাবলীল, সাদা মৃত্যু

ভেজা মৃত্যু

অন্ধকারে যে কোনো মৃত্যুর মত

ইচ্ছাজাগানিয়া

শুধু যেন হাওয়া বয়

যেন আমি শুয়ে আছি

ঘুম থেকে জাগার আগেই যেন

বালুতটে, পড়ে আছি

যেন আমি আমবনে জুঁইশাখে

রয়েছি জড়ায়ে।

১৬.৯.২০১০

Flag Counter

Categories
ব্লগ

কবিতার সমসাময়িক

কবিতায় আমার সমসাময়িক কারা এই লইয়া একটু ভাবনা ভাবলাম। এই যে নব্বই দশক কী আশি দশক বা শূন্য বলেন, আমি কি এদের কবি হিসাবে দেখতে পাই? পাই না। বরং ভারতচন্দ্র বলেন, মধুসূদন বলেন, রবীন্দ্রনাথ কী জীবনানন্দ বা শক্তি চট্টোপাধ্যায় বা আল মাহমুদ বা ধরেন উৎপল, বিনয়, অলোকরঞ্জন বা ফরহাদ মজহার বা আলতাফ হোসেন (কিছু নাম বাদ গেল, পরে ঢুকামু)–এরা আমার সমসাময়িক কবি। এনাগো সমসাময়িক ভাবতে পারলে সুবিধা বেশি। কবিতার আর সব মাহাত্ম্য বাদ দিলেও কেবল টেকনিকের দিক থিকাও ওনাদের অনেক ব্যাপার অধরাই রইয়া গেল!

তেমন ধরনের নতুন বা পরবর্তী কবির দেখা আমি পাই নাই। কবিদের ক্ষেত্রে দশকইয়ারি হইল এক মানববন্ধনের মত, হয়তো পাশে দাঁড়ানো কঙ্কালের হাতটি ধইরা মইরা আঙুল মটকাইতেছেন–তা তো করা যাইতেই পারে, তবে যদি কবিতা লেখতে আসছেন তইলে এই কাম আপনের লয়। পরে জন্মলাভ, স্বাস্থ্যহীনতা, সংখ্যালঘুত্ব, অনাহার, প্রগতিশীলতা, গধ্যে মার মার কাট কাট, নিভৃতিচর্চা, সহজ অনুশীলন এগুলা কিছুই কবিতা দিব না আপনেরে। ছোট ভাইরা, বড় ভাইগো থিকা দূরে থাকলে কী মিশশা গেলেই কবিতা লেখন যাইব না। ভালো কবিতা লিখলে আপনি নিজেই টের পাইবেন। যেমন খারাপ লেখইন্নারাও নিজে টের পায়–আমিও পাই।

পান্থপথ, ১৫/২/২০১০
লোক, দশ বছর পূর্তি সংখ্যা, সম্পাদক: অনিকেত শামীম, ফেব ২০১০

free counters

Categories
কবিতা

পাবো প্রেম

পাবো প্রেম গাছের ডালে

মিলিয়া সদলবলে

গাছের তলায়

বসিয়া আছি–

 

হুজুর প্রেম ছড়াবেন জনে জনে

ভক্তের এতদিনে

জল ও হাওয়ার প্রতি

জাগতেছে সম্ভ্রম।

২০০১

Flag Counter

Categories
কবিতা

না-ভালো লাগার গান

না-ভালো লাগার গান যদি গাই…

না-যদি তোমার কথা তোমাকে শোনাই…

না-ধরো স্মরণ করলাম তোমারে সহস্র যুগ…

তারো পরে কিছু প্রেম অবশিষ্ট থাকে নাকি,

প্রিয়তমে?

যদি থাকে–সেই থাকা/থাকাগুলি দিয়া

কাগজের নৌকা বানাইয়া

Categories
কবিতা

চতুর মেঘলা দিন

চতুর মেঘলা দিন,

তোমাকে চতুর বলতে ভালো লাগছে

তাই বলছি। বস্তুত যা মেঘলা তা তো

তেমন চাতুর্য নয়

যতটা বিষণ্ন কিংবা যতটা বর্ষণ

তত আমার বিরহ নয়

আমার এটুকু মাত্র—

 

তুমি সঙ্গে নেই।

 

০৯/০৯/১৯৯৪ 

 

kalidas1

Flag Counter

Categories
কবিতা

বাচ্চা মেয়ের জন্যে প্রেম

সে তো প্রথমে জিজ্ঞেস করলো আমি জিন্‌স পরি কি না। বাচ্চা মেয়ে। ক্লাস এইটে পড়ে। এই কথা সে জিজ্ঞেস করলো মানে আমি দেখতে কেমন?

আমি নিজের রূপ বর্ণনা করলাম। বললাম, পরি তো।

সে এতে খুশি হইলো সম্ভবত। তার চারপাশে তখন পিতাদের মোটা মোটা কণ্ঠস্বর শোনা যাইতেছিল। তারাও কি খুশি হইলেন?

টা ডা শ্!

ক্লাস এইট ফোন রাইখা দিলো। পরে করবে নিশ্চয়ই। আমি জিন্‌সের প্যান্ট খুইলা আবার লুঙ্গি পরলাম। প্রত্যেকবার ফোন আসলেই এক হাতে ফোনের হাতল ধইরা নতুন কিনা জিন্‌সের প্যান্টটা পরি। দুনিয়া যে কত অদ্ভুত জায়গা! এইখানে বাচ্চা মেয়ে নিয়া কথা বলা বড়রা একদম পছন্দ করে না।

Categories
কবিতা

স্তন

স্তন । এই নারীবাক্য অধিক বিশেষ্য। মহাপ্রাণ ধ্বনিতে নির্মিত মাত্রা -জ্ঞান -শূন্য গোলক। অদৃশ্য বলয়যুক্ত যাদুঘর। ক্রমস্ফীতি। মেটাফিজিক্স। গোলক–যা বর্তুল, প্রাণময় । এই স্তন ধর্মসংক্রান্ত।

প্রিয় স্তন, খুলে বক্ষবন্ধনী আজ আব্রু রক্ষা করো ।

ঐ স্তন দ্যাখো লাফিয়ে উঠেছে শূন্যে — মহাশূন্য: বিপরীতে সামান্য শূন্যের। ওই ভীত শিশুদের জন্ম হচ্ছে যত্রতত্র –তারা গান গাইছে জ্যামিতির–করুণামিতির। হেসে উঠছে বর্তুলজাতক। কী যেন বাঁশির ডাকে জগতের প্রেমে, বাহিরিয়া আসিতেছে সলাজ হৃদয়।

কেন এই স্তন বার বার! বাৎসল্যবিহীন যারা, লক্ষ করো, কীভাবে ব্যক্ত হয়ে উঠছে বাহুল্য; ওই ব্যক্তি হয়ে ওঠে স্তন–নারীবাদিনীর, ছুঁড়ে ফেলা ছিন্ন স্তন ফুঁসে উঠছে স্বীকৃতিসংক্রান্ত। তাকে দাও অধিকার– বিন্যস্ত হবার; তাকে শিশুদের হাত থেকে রক্ষা করা হোক!

ঐ স্তন ঘিরে ঘুরে আসছে মারাত্মক ভাবুক প্রজাতি। ভয়ে ও বিনয়ে, নুয়ে পড়ছেন অধ্যাপক–বিশুদ্ধ জ্যামিতি। ঐ স্তন ঘিরে উঠেছে সংক্রামক নগরসভ্যতা; ফেটে পড়ছে ত্রিকোণ-গোলক–

ঐ স্তন জেগে উঠেছে চূড়ান্ত —

ডাকো স্তন, হীনম্মন্যদের!

১৯৯২

Flag Counter

Categories
কবিতা

এই যদি গ্রামবাংলা

এই যদি গ্রামবাংলা–ভালো লাগল

ভালো খুব–ট্রেনের জানলা দিয়ে

দেখা গেল গ্রামবাংলা –বৃষ্টিটলমল

প্রাকৃতিক সংবেদনা–কৃষকের ছেলে

মাছ ধরছে খালের পানিতে

এসে বাতাস লেগেছে–ঢেউ

জেগেছে বর্ষায়

হাঁটছে মাটির রাস্তায়

সিক্ত ছাগলের পাল–আর

ট্রেনের জানলায়–দেখা যাচ্ছে

মধ্যবিত্ত–জর্জরিত মধ্যবিত্ত

চিপস খাচ্ছে–চিপস খাচ্ছে–চিপস খাচ্ছে–আর

দেখে নিচ্ছে গ্রামবাংলা –আজিও বর্ষার ।

 

১৯৯২ (?)

 

kalidas1

Flag Counter