নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ: আ জার্নি বোট ১৪
চেয়ার বহনকারী দুই জন নারী
চেয়ারের চেয়ে তারা ভারি
দখিন দখিন লঘুপাতে
গুরুকে দূরত্বে রেখে
টো অ্যান্ড গোড়ালি যোগে
রজ্জুসিঁড়ি বেয়ে
চরের মাটিতে নামে
তারা।
হেথা গুরু বক্রাইলেন
উপবেশনের ভঙ্গিতে… আর
আর দুই উচ্ছ্বসিলা
চেয়ারিলা
তারা চেয়ার বাগাইয়া ধরে
চেয়ার উঁচাইয়া ধরে
চেয়ার নিচাইয়া ধরে
বসিবার তরে
কিন্তু গুরু তো বসে না
গুরু খালি খাড়াইয়াই থাকে
আর নয় তো শুইয়াই পড়ে
বালুর উপরে
খাড়াইয়া ও শুইয়া শুইয়া
বালুতটে
নদীপটে
খাগড়ার জঙ্গলে
গুরু কিছু পাখিদেখা করে
গুরুর সে দেখা পাখি যখন অন্যেরা দেখে
গুরুর দায়িত্ব বাড়ে পাখি সম্প্রদায়ের ওপরে
গুরু দেন গূঢ় বাণী
নিগূঢ় শিষ্যারে
কন, বুঝলা পাখি, বুঝলা নাকি, পাখিদের
পাখিদের কোনো দেশ নাই!
কিংবা, যদি বুঝতে পারো ঘটের ভিতরে
বোঝা বইলা কিছু যদি থাকে ময়না, তোমা-অভ্যন্তরে
তাইলে বোঝো
পাখিদের সীমানার ধারণাই নাই
যে পাখির দেশ নাই
নাই কোনো সীমানা-টিমানা
সে পাখি প্রকৃত নয়
তার নাই উড়ার ধারণা
মানে, না যদি সীমানা থাকে
না পাখি তো… পাখি তো উড়ে না
পাখিগণ
কোথা হইতে কোথা বলো
উড়াউড়ি করে
বলো কই
কই থিকা কই যায়
যদি বলতে নাই বা পারো
পাখি কিন্তু…
পাখিগুষ্ঠি কোথা থেকে কোথাও সরে না
মানে পাখির সরণ-টরন কিছু নাই
পাখি স্থির।
যদিও আমরা দেখি পাখি উড়ে
আসলে তা তোমরা দেখো
আমি তো দেখি না
আমি অন্যভাবে দেখতে পাই
তাই আমি গুরু তো গুরুই থাকি
তোরা পাখিদেখা শিষ্য
তোদের সমস্ত ভুল
আসলে তো পাখিরা উড়ে না
তোরা নিচ থিকা পাখি দেখ
বার্ডস আই ভিউর সন্ধান
এ জগতে কে বা পায়
কোন বা নৌকায়
হায়, কে বা হায় দেখতে পায়
পাখিদের
পাখিদৃষ্টি দ্বারা
খালি আমরাই
মানে আমি
আমিই পাখিরে দেখি
বিহঙ্গ দৃষ্টিতে, বল
বার্ডস আই ভিউর বাইরে পাখিদের
কেমনে দেখিবি আজ তোরা!
কেমনে… যেহেতু বিশ্বের সব পাখিচক্ষুমতে…
মানে বার্ডদের আইয়ের ভিয়্যুতে
হেথা কিংবা হোথা বইলা
কোথাও কিচ্ছুটি নাই
এক নাম না থাকার হইতে অন্য এক নাম না থাকার দিকে
পাখিরা যে উইড়া যায় এমন যাওয়ারে
কী কারণে যাওয়া বলবো
বা আসাই
বলবো আমি পাখিদের এমন নৈরাজ্যবাদী গমণাগমন
আমারে বিরক্ত করে
পাখিদের এসব ব্যাপারে
নিশ্চিতই
গণমাধ্যমেরও কোনো সায় নাই
তাই ভাই পাখিরা ওড়ে না
আর বস্তুর না সীমানা থাকলে যদি নাম… নামও তো থাকে না
মানে নামহীন স্পেসের মইধ্যে অনামা বস্তুপিণ্ড
আন আইডেন্টিফায়েড অরা ফ্লাইং অবজেক্ট
অরা উড়ে না টুরে না
অরা, ওই পাখি হারামজাদার গুষ্টিরা
বইসা রহে, আগাছায় টাগাছায়
নলদণ্ডে, আম্রকাণ্ডে
বেতস লতায়
বিদ্যুৎ খাম্বায় কিংবা তারে তারে
মধ্যাকাশে নিম্নাকাশে মেঘের বরফে
অরা স্থির বইয়া থাকে
দূরবীণে আমরা দেখি
কত পাখি কত নাম কত না দূরবীণ তবু
এগুলা এগুলা নয়
এগুলার আসলে তো অস্তিত্বই নাই–
আমিই পাখিই দেখুম না
তোরা দেখ!
২১-২৮ নভেম্বর ২০১১





