নদীমধ্যে গুরুসঙ্গ: আ জার্নি বাই বোট ১৩
চরে নড়ে আলুপাতা কপিপাতা
পুঁই শাক, লাল শাক,
পিঁয়াজের কলি
তা দেখে তো বিমোহিত শহরের গ্রাম্য লোকগুলি
তারা পুচ্ছ নাচায় আর বলে আঃ আঃ আঃ
কী সুন্দর সবজি ফুটছে চরের মাঝখানে
কী সবুজ, তাজা কিন্তু, বাতাসে নড়তাছে দ্যাখ
জ্যান্ত সবজিগাছ!
শিশিরও পড়ছে কিন্তু
বইলা এক কর্কশিনী গার্গলিলা লালনের কলি
ততঃপর দুই গণ্ডে
আলতো কইরা দ্রুত হস্তে পেঁয়াজের কলি
ছোঁয়াইয়া টোয়াইয়া বলল
আ মরি! আ মরি!!
গুরু দেইখা প্রশ্রয়ের হাসি হাইসা কয়,
প্রকৃতির সঙ্গে তোমরা মিশিবা নিশ্চয়।
প্রকৃতির সঙ্গে মিশা বলে এইটারে
যদি তুমি দুই গালে
দুই দুইটা পিঁয়াইজের কলি
এক লগেই বাড়ি মারো
নেচার তোমার মধ্যে ঢুইকা তো যাবেই
তখন নিঃশ্বাস নিবা জোরে জোরে
ভাববা যেন তুমি এক বড়সড় পিঁয়াজের চারা
পিঁয়াইজের শুণ্ড ছাড়া ভাবা যায় না
তোমার চেহারা
দেখো
আলুপাতা, কপিপাতা, পুঁই পাতা, লাল পাতা,
পিঁয়াজ পাতায়
তোমাদের নাইমা পড়া অপরূপ
সুন্দর লাগতেছে
বলে গুরু পুঁই ডাটি চাবাইতে লাগলেন
দেখাদেখি ছুইটা গেল আলুদের খেতে
গুরুর অশিষ্ট চামচারা কয়টায়
আলু তুললো ফটাফট, ছড়ায়া ছিটকাইয়া
দেইখা
ভোরের বাছুর দিল দৌড়
ঘটলো ধুলার তাণ্ডব
ক্যামেরা সাঁটাইয়া দিল ভিনদেশী যুবক
তারা পুনরায় আঃ আঃ করলো
লুটাইয়া মাটিতে তুললো অ্যাক্রোবেট
ভঙ্গিতে কিছু দ্রুত ছবি আর
শাটার সমাপ্ত হইলে একযোগে
হাসলো, বললো–ধুলা!
১৯/১১/২০১১





