গরুর রচনা সর্বদাই গরুর রচনা। কদ্যাপি উহা ছাগল কিংবা নদীর রচনা নহে।
সংজ্ঞা: বিশেষ্য। অকর্মক সেইসব প্রাণী যারা তাদের সম্মানিত লেজের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করেন তাদের গরু বলা হয়।
সংঙ্গাহীনতা: উপযুক্ত সংজ্ঞার অভাবে অনেক গরুই আর শেষ পর্যন্ত গরুতে পরিণত হইতে পারে না। গরুর সংজ্ঞাহীনতার একটি পর্যায় আছে। সংজ্ঞাহীন গরুর আরেক [...]
চেয়ার বহনকারী দুই জন নারী
চেয়ারের চেয়ে তারা ভারি
দখিন দখিন লঘুপাতে
গুরুকে দূরত্বে রেখে
টো অ্যান্ড গোড়ালি যোগে
রজ্জুসিঁড়ি বেয়ে
চরের মাটিতে নামে
তারা।
হেথা গুরু বক্রাইলেন
উপবেশনের ভঙ্গিতে… আর
আর দুই উচ্ছ্বসিলা
চেয়ারিলা
তারা চেয়ার বাগাইয়া ধরে
চেয়ার [...]
অল্প অল্প দুলিতেছে সুন্দর জাহাজ
শীতের বাতাসে কাঁপে ঊষাকালে
ঘাড় কাৎ সুন্দর জাহাজ।
জাহাজের যাত্রীদের মাটিহীন দিন আর ভাল্লাগতেছিল না
তারা ভূমিস্পর্শ চায়।
চরে ফুটলো কাশফুল,
ঘাসফুল,
কচুরিপানার ফুল
শাদা ও বেগনিরঙে মোহনীয়
অল্পস্বল্প চর
সবুজের উপস্থিতি মাটি আর বালির মতোই
দ্রুত সাধারণ–
[...]
চরে নড়ে আলুপাতা কপিপাতা
পুঁই শাক, লাল শাক,
পিঁয়াজের কলি
তা দেখে তো বিমোহিত শহরের গ্রাম্য লোকগুলি
তারা পুচ্ছ নাচায় আর বলে আঃ আঃ আঃ
কী সুন্দর সবজি ফুটছে চরের মাঝখানে
কী সবুজ, তাজা কিন্তু, বাতাসে নড়তাছে দ্যাখ
জ্যান্ত সবজিগাছ!
শিশিরও পড়ছে কিন্তু
বইলা [...]
হায় কেমন দুনিয়ায় আমি থাকি!
হেথা কণ্ঠস্বর হইয়া লোকে দেখা দেয়, কথা বলে, হাসে ও ভ্রুকুটি করে
আর এক সময় দেখাও দেয় না, তারা হাসেও না–
তারা আর নাই। মনে করো সকাল বেলায়
যদি ফোন ভাইব্রেশনে কাঁইপা উঠলো তুমি ভাবলা
শওকত ওসমান। কিন্তু দেখো সে তো নাই
[...]
ছোট্ট এক রাঙা ফুল জাহাজের পাশ দিয়া
উইড়া যাইতে ছিল
চামচাদের একজনায় অধিক উৎসাহে
ধইরা ফেললো খপ করিয়া
নিয়া আইলো সভাসদস্থলে
বললো, “এইটা–এইটা কোনো গোপন ক্যামেরা–
দ্রোন ফুল পাঠাইছে সিআইএ নিশ্চয়ই,
আমাদের প্রাইভেসির বারোটা বাজতেছে!”
নরম রোদের মইধ্যে বারোটা বাজার শব্দে গর্দান ঘুরাইলা গুরু
সকাল [...]
ওরে আগুন আমার ভাই…
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অকস্মাৎ বজ্রপাত
আগুন ছড়ায়ে গেল কাঠের নৌকায়
ধাপে ধাপে
প্রথমে তো খাক হইল অগ্রভাগগুলা
গুরুর নিশান যথা
যেথা আগুন জ্বলতে থাকতো অহোরাত্র বেলজিয়াম গ্লাসে তৈরি
গ্যাসের চুলায়
বহ্নিদ্বারা আহ্নিকাদি সারা হইত তাতে
মই দিয়া
বই [...]
চাপা দুর্গন্ধ সেইখানে খাবারের। ঢোকার সময় কী জানি নাম আমার জাস্ট আগের বান্ধবীর বান্ধবীরে দেখলাম রেস্টুরেন্টটার দুয়ারে দাঁড়াইয়া থাকতে। বয়ফ্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করতেছিলেন কি? হায়! কয়েক বছর আগে একবার দেখছিলাম ওনারে। তখন আমি প্রথম বা দ্বিতীয় দেখা করতে গেছিলাম তখনও বান্ধবী হয় নাই কিন্তু পরে বান্ধবী হইছে এমন সেই বান্ধবীর লগে। তো [...]
সত্যজিৎ রায় ছবি বানাইছেন বই লিখছেন, তাঁর কাজের একটা মহিমা ছিল… কিন্তু তাঁকে সকলে জিনিয়াস বলতে পছন্দ করে। কারণটা কী? কারণ কি এই যে অন্যেরা কেউ এস আর-এর কাছাকাছি ছিল না বা হইতে পারবে না এমন কুসংস্কার?
এস আর-এর কাজ ভাল, কিন্তু যে অর্থে রবীন্দ্রনাথ, পিকাসো বা দালিকে জিনিয়াস বলতে হয় সে [...]
১৯৮৪ এবং ’৮৫ সালে আমি দুইবার আর্ট ইন্সটিটিউটে ভর্তি পরীক্ষা দিছিলাম। ডিজাইন নিয়া একটা প্রশ্ন ভুল বোঝনে শেষের বার, আর কী কারণে জানি না আগের বার টিঁকিতে পারি নাই। (ভালোই হইছে!)
ভর্তি হওনের লাইগ্যা অনেক দৌড়াদৌড়ি করছি। মনে আছে কোনো আর্টিস্ট বড় ভাইয়ের বাসায় গেছিলাম, তারপরে রণবীর এক অনুজ আত্মীয়রে লইয়া [...]
১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ শনিবার দুপুর বেলায় আমি নিউ মার্কেট থিকা একটা ড্রয়িং খাতা কিনছিলাম। গবেষকদের মতন যে তারিখ কইতে পারলাম সেইটা নজিব তারেকের কৃপা। আমি ড্রয়িং খাতা লইয়া হাঁইটা যাইতে ছিলাম শাহবাগে। জাদুঘরের সামনে আর্ট কলেজের তৎকালীন ছাত্র নজিব তারেক-এর লগে দেখা হইল। উনি আমার খাতা নিয়া প্রথম [...]
আর গবেষকের চোখ তৈরি হয় অসংখ্য প্রশ্নচিহ্নের সমাহারে
ঘোড়ার কোনো শিং হয় না। ফলে আমরা বেঁচে গেছি। বেঁচে গেছে ঘোড়াও।
এখন এই কথাটুকু বললাম কেন? কোনো কারণ নেই। আমার বলার কথা হলো: ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিলো। এতে কারু কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি একজন করেন। তিনি গবেষক। আপত্তি করাই তার পেশা। [...]
বৃষ্টি হলে কাঠাল তলায়
এরা দুইজন
কাঠালের ঝরা পাতা
পা মাড়িয়ে যায়
আর
ভিজা মাটি আবার শুকায়।
১৬/৮/২০১১
(সানজিদা জুঁইকে)
গাঙ হালিক, ও গাঙটি শালিক,
লাগতেছে কেন ডর?
আযাযিল নহে, ভ্রমণকারিনী—সাদা রঙ তবু
বিষদাঁত নয়। বন্দুক নাই। মাংসাশী নন।
ব্যাকপ্যাকে রাখা
মহাসাগরের ঢেউ।
পাখি দেখতেই
ক্যামেরা সঙ্গে—
ট্রাইপডও আছে—
ভোরবেলা নেমে এসেছেন ধরাধামে। সঙ্গীরা দূরে
খালের জলটি কুয়াশার রঙে রাঙা
ভোরবেলা [...]
যেন কোনো জাতিস্মর
অহেতু শৈশব নিয়ে
শুয়ে আছে
আকাশের
তারাদের নিচে
যেন কেউ আর নাই বহু বহু দিন ধরে
সমুদ্রের পারে যেন
রোদ নাই
ছায়া নাই
অন্ধকার
যারা ছিল চলে গেছে
তোমার যাওয়ার কোনো কিছু নেই
যে যেখানে নিয়ে যাবে
নিয়ে গিয়ে ছেড়ে যাবে
তেমন থামার কোনো স্পষ্ট [...]
কলা যেমন ফল
তার কাউয়া তেমন পাখি রে…
কলা যেমন ফল তার
কাউয়া তেমন পাখি রে
কলার ছোলকা কলায় থাকে না।
কাউয়া ডাকে কা কা।
কলা বলে কলা খা।
কোথায় রইলা দোরা কাউয়া রে–
আমার কোথায় রইল দোরা কাউরা রে!
আমার কলা ফল রে।
১/৮/২০১১
“জসীম উদ্দীনের গদ্য, আমরা করজোড়ে বলি, সেই মাল যার নাম হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রেখেছিলেন ‘খাঁটি বাংলা’।… জসীম উদ্দীনের গোড়া পুথির পাতায় নয়, লোকের মুখের কথায়।” (জসীমউদ্দীনের বাংলা / সলিমুল্লাহ খান, অগ্রহায়ণ ১৪০৯)
“হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কি দীনেশচন্দ্র সেনের মতন জসীমউদদীনও বাংলার অজ্ঞা আবিষ্কার করেছিলেন। সে অমৃতের বলে বাংলার গতি কি হবে, পরাধীন [...]
সব দৃশ্য পরিচিত
হোন্ডার পিছনে যে বসে আছে, যে মেয়েটি
কাঁধে হাত দিয়ে সে যে
সামনের লোকটার মেয়ে না প্রেমিকা
তা তো জানা… যে গেল না…
সেই পরিচিত দৃশ্য তুমি
বারবার
দেখতে থাকবে যেহেতু রাস্তাই
তোমাকে বহন করবে আরো বহুদিন
আরো বহুদিন তুমি
লিফট ঘরে নিরবেই নামতে থাকবে
যাত্রীদের সঙ্গে কোনো
বাক্যালাপ ছাড়া
যেন এই [...]
আমি কি তোমার প্রেমে পড়বো নাকি–
তোমার শরীর?
আমার যা ভালো লাগে
শুকনা ও জটিল
তেরছা
গ্রীবা ও ভ্রুভঙ্গি
তার
বঙ্কিমতা
স্ফীত ওষ্ঠ সবচেয়ে ভালো–
তায় পরেছো সবুজ শাড়ি, অব-
হেলিত সবুজ–আততায়ী অত্যল্প সবুজে তুমি
যদি ভালো লাগে যদি
হাত ধরতে চাই তার
হাত বলতে আঙুলে ছড়ানো তালু
রেখা আর অকোমল
ঘেঁষটে যাওয়া আঙুলের
দূর [...]

